Header Ads Widget

header ads

Ticker

6/recent/ticker-posts

দ্বাদশ শ্রেণি- পার্লামেন্টে আইন পাসের পদ্ধতি

দ্বাদশ শ্রেণি
বিষয়- রাষ্ট্রবিজ্ঞান

ভারতের আইনবিভাগ


প্রশ্ন- ভারতীয় পার্লামেন্টের আইন পাসের পদ্ধতি আলোচনা করো। [8]



উত্তর- ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার নাম হল পার্লামেন্ট বা সংসদ। পার্লামেন্টের প্রধান কাজ হল আইন প্রণয়ন করা। ভারতীয় সংবিধানের 107-122 নম্বর ধারায় পার্লামেন্ট আইন পাসের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আইন তৈরি হওয়ার আগে তার যে খসড়া (Draft) প্রস্তাব আকারে পেশ করা হয় তাকে বিল (Bill) বলে। 107 নম্বর ধারা অনুসারে অর্থবিল এবং অন্যান্য অর্থবিষয়ক বিল (Money Bills and other Financial Bills) ছাড়া অন্যান্য বিল পার্লামেন্টের যেকোনো কক্ষে উত্থাপন করা যায়। সাধারণ বিল উত্থাপন থেকে আইনে পরিণত হওয়া পর্যন্ত বিলটিকে এইসব পর্যায় অতিক্রম করতে হয়।

সাধারণ বিল পাসের পদ্ধতি

প্রথম পর্যায়- প্রথমে বিল উত্থাপন করতে হয়। বিল উত্থাপনের জনসভার অনুমতি চেয়ে উক্ত সদস্যকে প্রথমে প্রস্তাব করতে হয়। লোকসভা এবং রাজ্যসভার ক্ষেত্রে যথাক্রমে অধ্যক্ষ এবং সভাপতি সভার কাছে অনুমতির জন্য ওই প্রস্তাব পেশ করেন। সভার অনুমোদন পেলে উত্থাপক বিল উত্থাপন করেন। এই সময় বিলের উপর কোনো আলোচনা হয় না। তবে, বিলটির শিরোনাম, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখা হয়। এই পর্যায়টিকে বলা হয় বিলের প্রথম পাঠ।

দ্বিতীয় পর্যায়- এই পর্যায়ে বিলের দ্বিতীয় পাঠ শুরু হয় এবং বিলের উত্থাপক নিম্নোক্ত যেকোনো একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন- (i) সভা বিলিটি সম্পর্কে বিবেচনা করুক; (ii) বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক; (iii) বিলটি সম্পর্কে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে এটিকে প্রচার করা হোক; (iv) বিলটি উভয় কক্ষের একটি জয়েন্ট কমিটির কাছে পাঠানো হোক।

তৃতীয় পর্যায়- এই পর্যায়ে কমিটি বিলটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিবেচনা করে, বিলের প্রতিটি ধারার বিস্তারিত আলোচনা করে। এরপর প্রয়োজন হলে কমিটি বিলের যেকোনো ধারা সংশোধনের সুপারিশ করতে পারে। তবে কমিটি বিলটির মূল নীতি বা উদ্দেশ্য সংক্রান্ত কোনো সংশোধনের সুপারিশ করতে পারেনা।

চতুর্থ পর্যায়- এবার রিপোর্ট তৈরির পালা। বিলটির বিভিন্ন দিক বিচার বিবেচনার পর কমিটি রিপোর্ট তৈরি করে এবং কমিটির চেয়ারম্যান রিপোর্টটিকে সভায় পাঠান।

পঞ্চম পর্যায়- কমিটি যে রিপোর্ট পাঠিয়েছিল সেটি সভায় আলোচনার জন্য গৃহীত হয় এবং বিলের প্রতিটি ধারা-উপধারার উপর বিস্তারিত আলোচনা চলে। এই পর্যায়ে কোনো সদস্য বিলটির ওপর সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন। আলোচনা শেষ হলে বিলের প্রতিটি ধারা-উপধারার ওপর ভোট নেওয়া হয়।

ষষ্ঠ পর্যায়- এরপর শুরু হয় বিলের তৃতীয় পাঠ। এই পর্যায়ে বিলটির আংশিক অনুমোদন বা সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকে না, সদস্যদেরকে সমগ্র বিলটি অনুমোদন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে হয়। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য বিলটির পক্ষে রায় দিলে বিলটি গৃহীত হয়।

সপ্তম পর্যায়- এক কক্ষে গৃহীত হওয়ার পর বিলটিকে অপর কক্ষের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। যদি অপর কক্ষে কোনোরূপ সংশোধন ছাড়া বিলটি গৃহীত হয় তাহলে সপ্তম পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। যদি অপর কক্ষে বিলটির ওপর সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং সেই সংশোধন প্রথম কক্ষ (অর্থাৎ, যে কক্ষে বিলটি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল) মেনে নেয় তাহলেও কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যদি অপর কক্ষ বিলটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে অথবা ছ'মাসের বেশি আটকে রাখে, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশন আহ্বান করেন। যৌথ অধিবেশনে উভয় কক্ষের সদস্যরা উপস্থিত থাকেন এবং বিলটির ওপর ভোট দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলটি অনুমোদন করলে বিলটি গৃহীত হয়।

চূড়ান্ত পর্যায়- উভয় কক্ষের অনুমোদন লাভ করার পর বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত হয়। রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সম্মতি দিতে পারেন, আবার নাও পারেন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিলটি ফেরত পাঠাতে পারেন। এক্ষেত্রে উভয় কক্ষের পুনর্বিবেচনার পর বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির কাছে এলে তিনি তাতে সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন। তবে, অর্থবিল এবং সংবিধান সংশোধনী বিলকে রাষ্ট্রপতি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন না। যাইহোক, রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরই কোনো বিল আইনে পরিণত হয়।